Tuesday - 7 - July - 2020

বইমেলায় চাকরি পাওয়ার গল্প

Published by: সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক |    Posted: 4 months ago|    Updated: 4 months ago

An Images

সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক :

মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের স্মৃতিজড়িত মাস ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা এবারের বইমেলায় রয়েছে মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি প্যাভিলিয়ন। ছোট-বড় প্রতিটি স্টলে বিকিকিনিতে সহযোগিতা করছেন একদল দক্ষ ও চৌকস বিক্রয়কর্মী। সাধারণত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বইমেলায় খণ্ডকালীন এই কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। জেনে নেওয়া যাক তাঁদের চাকরি পাওয়ার টুকরো গল্প।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তমঞ্চ-সংলগ্ন প্রবেশপথ ধরে একটু এগিয়ে যেতেই দেখা মিলল আগামী প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন। এখানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন মো. আসিফুল হক জয়, ঢাকা কলেজে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে পড়াশোনার চাপ কম থাকে, অবসর সময়ই কাটে। বইয়ের প্রতি সেই ছোটবেলা থেকে ভালোবাসার দরুন পরবর্তীতে আগামী প্রকাশনীর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানতে পরলাম বইমেলার খণ্ডকালীন চাকরি সম্পর্কে। যথারীতি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সিভি দিলাম। ডাক এল এখান থেকে। মৌখিক পরীক্ষায় টিকে চাকরি মিলল।’

বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়নে বইয়ের তথ্য পাঠককে জানাচ্ছিলেন পার্থ সরকার । তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি বাংলা একাডেমিতে বইমেলায় খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে।’ তাঁর পাশেই ছিলেন আনোয়ার হোসেন, শাহপরান রাশেদ, নোবেল আহমেদ, রাফিদ আজমাইন খান। তাঁরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁরা সবাই একসঙ্গে সিভি জমা দেন। তারপর ভাইভা পরীক্ষায় বসে তাঁরা পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে পেয়ে গেলেন জীবনের প্রথম চাকরি।

প্রথমা প্রকাশনের প্যাভিলিয়নে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন পুষ্পিতা চৌধুরী। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। বইয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর দীর্ঘক্ষণ বইয়ের সঙ্গে থাকার আনন্দ উপভোগ করার জন্যই বইমেলায় খণ্ডকালীন চাকরি নিয়েছেন। তাঁর মতো আরও অনেকেই বইকে ভালোবেসে এ চাকরি নিয়েছেন।

মেলায় চাকরির সুযোগ প্রসঙ্গে প্রথমা প্রকাশনের উপব্যবস্থাপক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চৌকস, উদ্যমী, পরিশ্রমী, সহজ-সাবলীল উপস্থাপনা, সুন্দর বাচনভঙ্গি, দৃঢ়প্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী, বই সম্পর্কে ভালো ধারণা ও আগ্রহী, প্রত্যুৎপন্নমতি তরুণ-তরুণীদের আমরা সাধারণত নিয়োগ দিয়ে থাকি। একজন কর্মীকে সাধারণত কমবেশি ৮-১২ হাজার টাকা বেতনসহ বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।’

যাঁরা পরের বইমেলায় চাকরিটা হাতছাড়া করবেন না বলে ভাবছেন, তাঁদের এ বছরের ডিসেম্বর থেকে চোখ রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চাকরিভিত্তিক গ্রুপে, বইমেলায় স্টল আছে এমন প্রকাশনীর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে । চাকরি মিলবেই, সঙ্গে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয়ের নিশ্চিত সুযোগ। সঙ্গে অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রিয় লেখকের সাক্ষাৎ পাওয়া, বই সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ যা প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে রাখবে। জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে প্রস্তুত থাকুন।