Sunday - 9 - August - 2020

বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভারতের নাগরিক সৌদি আরবে

Published by: সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক |    Posted: 4 months ago|    Updated: 4 months ago

An Images

সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক :

রাজশাহী পাসপোর্ট অফিস থেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট বানিয়ে নিয়েছেন এক ভারতীয়। শুধু তা-ই নয়, ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগেই এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে ফেলেছেন, তবে অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ কাজের সঙ্গে সাত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার আটজনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই ব্যক্তির নাম হাফেজ আহম্মেদ (৪৯)। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ হোসেন। মা জয়নব বেগম। মামলার এজাহারে তাঁর ভারতীয় ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী সংস্থার সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেছেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের ঠিকানায় হাফেজকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়।

মামলায় হাফেজ আহম্মেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের তৎকালীন সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম, উচ্চমান সহকারী দেলোয়ার হোসেন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর আলমাস উদ্দিন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুল ওয়াদুদ, অফিস সহায়ক হুমায়ন কবির, এমএলএসএস রঞ্জু লাল সরকার ও দপ্তরি ইব্রাহিম হোসেন। তাদের মধ্যে আবজাউল আলম বর্তমানে যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক। দেলোয়ার আগারগাঁও অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট। আর আলমাস উদ্দিন জয়পুরহাট, আবদুল ওয়াদুদ রাজশাহী এবং ইব্রাহিম গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত। হুমায়ুন ও রঞ্জু সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৬ জুন হাফেজ আহম্মেদ রাজশাহী নগরের ছোটবনগ্রাম এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। ব্যাংক ড্রাফট না থাকলেও পরের দিন এমএলএসএস রঞ্জু লাল সরকার আবেদনটি গ্রহণ করে নিজের হেফাজতে রাখেন। সেদিনই গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই পাসপোর্ট করে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর অবৈধ লেনদেনের চুক্তি হয়। পরে নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে রঞ্জু নিজেই ভারতীয় হাফেজের জন্ম সনদ তৈরি করেন এবং ১৩ জুন তিনি ৩ হাজার ৪৫০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করেন। পরে রঞ্জু আবেদনটি দেলোয়ারকে দেন। দেলোয়ার ৩১ জুলাই পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদনটি নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠান। পুলিশের প্রতিবেদনে হাফেজকে ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়ার পর অফিস সহকারী হুমায়ুন কবীরের দায়িত্ব ছিল আবেদনকারীকে ভারতীয় হিসেবে কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়া, কিন্তু তিনি বিষয়টি চেপে যান। এতে করে তাঁর পুলিশ প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ বলে গণ্য হয় এবং ১৬ আগস্ট পাসপোর্টের আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হয়ে যায়। ৩০ আগস্ট সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর আলমাসের মাধ্যমে হাফেজের আবেদনপত্রে বাড়ির নম্বর পরিবর্তন করে চূড়ান্তভাবে আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন। শুরু হয় পাসপোর্ট তৈরির কার্যক্রম। ৭ সেপ্টেম্বর রেকর্ড কিপার ইব্রাহিমের ইউজার আইডি থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি করা হয়। রঞ্জু লাল সরকার নিজেই পাসপোর্টটি গ্রহণ করে হাফেজ আহম্মেদকে দেন। এরপর ভিসা নিয়ে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি হাফেজ সৌদি আরব চলে যান। তিনি আর বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন কিনা, এ রকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক জানিয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পুলিশি প্রতিবেদন গোপন করে অবৈধভাবে পাসপোর্টটি দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর হাফেজের সমস্ত রেকর্ডপত্র গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তবে একটি গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর তদন্ত করে। অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসেন ও ডেটা সেন্টারের অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এই ঘটনার জন্য পাসপোর্ট অফিসের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করেছেন। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে প্রথমে দুদক অনুসন্ধান করে। এ সময় প্রাথমিকভাবে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। তারপর কমিশন মামলা অনুমোদন করে। এরপরই মামলাটি হলো। এখন আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। আর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র প্রস্তুত করবেন। এই পাসপোর্ট ইস্যুর সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।