Friday - 26 - February - 2021

এক্সপ্রেসওয়ে যুগে দেশ

Published by: সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক |    Posted: 11 months ago|    Updated: 11 months ago

An Images

সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক :

যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা ছয় লেন সড়ক খুলছে আজ

মুজিববর্ষ শুরুর প্রাক্কালে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে আজ বৃহস্পতিবার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় লেন বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই সড়কের উদ্বোধন করবেন।
ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাগরিকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের এই এক্সপ্রেসওয়ে দুটি সার্ভিস লেনের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীকে যুক্ত করবে। এটা ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে।


এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচটি ফ্লাইওভার, ১৯টি আন্ডারপাস এবং প্রায় ১০০টি সেতু এবং কালভার্ট রয়েছে। মাওয়া থেকে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং পানছার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি এক্সপ্রেসওয়ে পুরো খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের একটি অংশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ছয় জেলার অর্থাৎ মোট ২২ জেলার মানুষ এই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উপকৃত হবেন। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের দুটি অংশ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত হবে। দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুতে মঙ্গলবার ২৬তম স্প্যান বসানোর পরে এর চার কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে।
২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেতুটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভাঙ্গা থেকে ঢাকায় আসা এবং যাওয়ায় এক ঘণ্টার কম সময় লাগবে। আগামী ২০ বছরের প্রয়োজন বিবেচনা করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় ১১ হাজার চার কোটি টাকা ব্যয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হয়েছে।


সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে ২০১৬ সালে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং ফরিদপুরকে যুক্ত করে এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করে। নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাসের আগেই এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলো।
স্থানীয় ও ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের দু'পাশে দুটি পরিষেবা লেন রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারে। এতে দীর্ঘপথের যাত্রীদের ভ্রমণের সময় হ্রাস পাবে।
এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচটি ফ্লাইওভারের একটি হলো ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার কদমতলী-বাবুবাজার লিঙ্ক রোড ফ্লাইওভার। অন্য চারটি ফ্লাইওভার হলো আবদুল্লাহপুর, শ্রীনগর, পুলিয়াবাজার এবং মালিগ্রামে। এক্সপ্রেসওয়েতে জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে চারটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ এবং চারটি বড় সেতু রয়েছে। সেতুগুলো হলো- ধলেশ্বরী-১, ধলেশ্বরী-২, আড়িয়াল খাঁ এবং কুমার সেতু।
মাওয়ার নিকটবর্তী রাস্তার পাশে নিরালা রেস্তোরাঁর মালিক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের কারণে মাওয়া থেকে ঢাকা যেতে আগের দুই ঘণ্টার পরিবর্তে এখন ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না থাকায় বাস ও ট্রাক দ্রুতগতিতে চলাচল করতে পারে। এর আগে পোস্তগোলা রেলপথ পারাপারেই ৩০ থেকে ৬০ মিনিট সময় লেগে যেত। তবে এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এই জায়গাটি অতিক্রম করা যায়। তিনি বলেন, যোগাযোগের অগ্রগতির কারণে এখন অনেক লোকই তাদের এলাকায় ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করতে চায়। তিনি আশাবাদী- তার অঞ্চলটি একটি পর্যটন স্পটে পরিণত হবে।
বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক আরিফ চৌধুরী এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন করে বলেছেন, 'এটা চমৎকার, আমি অভিভূত। আমার কাছে মনে হয় আমি যুক্তরাজ্যের কোথাও আছি।'
গাড়ি চলবে দেড়শ' কি. মি. গতিতে :সমকালের মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু জানান, এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ প্রান্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ১৫০ কিলোমিটার। এই গতিবেগে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ২৭ থেকে ৩০ মিনিট।
সংশ্নিষ্ট সূত্র মতে, ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হলেও বাকি কাজ শেষ করতে আরও কয়েক মাস পেরিয়ে যাবে বলে জানান সংশ্নিষ্টরা।