
ঢাকা রোববার, ২৪ কার্তিক ১৪১৬, ১৯ জিলকদ ১৪৩০, ৮ নভেম্বর ২০০৯
আপডেট : বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টা ৪৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড
ব্রেকিং নিউজ :
প্রথম পাতা
বুদ্ধিজীবী ঘাতক আশরাফের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত শুরু
রোজিনা ইসলাম

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। অপরাধ শাখার বিশেষ তদন্ত অফিসের পরিচালক এলি এম. রোজেনবাম স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুকে এ অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন সেপ্টেম্বরে। সরকার এ অনুরোধে সাড়া দিতে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংগ্রহ করছে।
এলি রোজেনবামের চিঠিতে লেখা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মোহাম্মদ আশারাফুজ্জামান খান ১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। একাত্তর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আশরাফুজ্জামান খান ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং আলবদর বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় সদস্য। আশরাফুজ্জামান আলবদর বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। এই বাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সরাসরি হত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। চিঠিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আশরাফুজ্জামান খান এবং তার বাহিনী মিরপুরে মুনীর চৌধুরী, আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দীন আহমেদ, রাশিদুল হাসান, ড. ফায়জুল মহি এবং ড. মোহাম্মদ মর্তুজাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হত্যা করে। আলবদর বাহিনী পূর্বদেশ'র সম্পাদক সাংবাদিক আ ন ম গোলাম মোস্তফাকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে তার এসব কাজের জন্য ১৯৯৭ সালের গত ২৪ সেপ্টেম্বর আশরাফুজ্জামানের নামে রমনা থানায় মামলা (নং-১১৫/১৯৯৭) করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, ওয়্যার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি (ডবিস্নউসিএফএফসি) তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে।
চিঠিতে বলা হয়, 'জেনোসাইড '৭১ এন্ড একাউন্ট অফ দি কিলারস এন্ড কলাবরেটরস এবং সাউথ এশিয়া ট্রাইবুনাল (নং-২৩,৩০ ডিসেম্বর ২০০২) উল্লেখ আছে, ১৯৭১ সালের শেষ দিকে যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান খানের বাড়ি থেকে পাওয়া তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জনের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীর নাম লেখা ছিল। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালে হত্যা করা হয়েছে এমন বুদ্ধিজীবী এবং পরবর্তী সময়ে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অর্থাৎ গুম করা হয়েছিল তাদের নামও ডায়েরিতে লেখা ছিল। জেনোসাইড '৭১-এ আরও উল্লেখ আছে, জামায়াতে ইসলামী এসব খুন এবং গুম হয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়া আশরাফুজ্জামান খানের ড্রাইভার মফিজউদ্দিন সাক্ষী দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ অধ্যাপক হত্যার প্রধান ঘাতক ছিল আশরাফুজ্জামান খান।
চিঠিতে আশরাফুজ্জামানের তদন্ত ও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ১৯৭১ সালে খানের যেসব কর্মকা- সম্পর্কিত সব নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি রয়েছে তা দিয়ে সহায়তা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ থেকে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো_ বাংলাদেশ থেকে পালানোর সময় যে ডায়েরিটি আশরাফুজ্জমান খান তার ৩৫০নং নাখালপাড়ার বাসায় ফেলে গিয়েছিল সে ডায়েরিটি, পূর্বদেশ সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদককে অপহরণের ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অথবা অন্যান্য মূল দলিল, আশারাফুজ্জামান খানের ড্রাইভার মফিজউদ্দিনের দেয়া জিজ্ঞাসাবাদ বা ভাষ্যের কপি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ডবিস্নউসিএফএফসি'র ২০০৮ সালের ৩ এপ্রিল প্রকাশিত ১ হাজার ৫৯৭ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা, ১৯৯৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আশরাফুজ্জামানের নামে রমনা থানায় মামলার রেকর্ড ও তথ্যাদি। এছাড়া আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কাছে যেসব তথ্য-প্রমাণ বা যেসব রেকর্ড রয়েছে তাও চাওয়া হয়েছে।
যুুক্তরাষ্ট্র সরকার এসব তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও কপি যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের আঞ্চলিক আইন কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র হার্ভি সারনোবিৎজ গতকাল 'সংবাদ'কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব সময় বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সহায়তা করে আসছে। এ উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলেরই অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান অঙ্গীকারের একটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। মহাজোট সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাবও পাস করা হয়। এর মধ্য দিয়েই নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। বিচারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত যুদ্ধপরাধীদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়।
রেটিং দিন :
সম্পাদক -আলতামাশ কবির এবং তৎকর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । E-mail : sangbaddesk@gmail.com
Copyright © 2009 The Sangbad Ltd.
কার্যালয় ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । E-mail : sangbaddesk@gmail.com
Copyright © 2009 The Sangbad Ltd.
Powered By: orangebd





